বাউল সম্রাট ক্বারী আমির উদ্দিন আহমেদ-এর ৮২তম জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি

বাউল সম্রাট ক্বারী আমির উদ্দিন আহমেদ-এর ৮২তম জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি

বাংলার বাউল গানের অমর সাধক, আমাদের সকলের শ্রদ্ধার পাত্র, আমার গানের গুরু—বাউল সম্রাট ক্বারী আমির উদ্দিন আহমেদ-এর ৮২তম জন্মদিন আজ। ১৩৪৯ বঙ্গাব্দের ৭ই ফাল্গুন (১৯৪২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি) এই মহান শিল্পীর জন্ম। তিনি বর্তামানে দেশে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া অমূল্য সংগীতধারা, সুরের মাধুর্য ও আধ্যাত্মিক বাণী আজও বেঁচে আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে।

একজন সংগীত সাধকের জন্ম

ক্বারী আমির উদ্দিন আহমেদ ছিলেন এক ব্যতিক্রমী প্রতিভা, যিনি শুধু গানের জগতে নয়, আধ্যাত্মিক জগতেও ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাউল গানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতা তাঁকে এনে দিয়েছে ‘বাউল সম্রাট’ উপাধি, যা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। তাঁর গান ছিল প্রেম, মানবতা ও আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণে এক অনন্য সুরধারা, যা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যেত।

বাউল গানের প্রকৃত সৌন্দর্য তিনি তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে লালন করেছেন এবং আমাদের মতো শিষ্যদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। আমি সৌভাগ্যবান, যে তাঁর স্নেহ ও শিক্ষার ছায়ায় বড় হয়েছি, তাঁর গানের দর্শনকে আত্মস্থ করতে পেরেছি।

সুর ও সাধনার অনন্য দৃষ্টান্ত

বাউল সম্রাট ক্বারী আমির উদ্দিন আহমেদ কেবল একজন সংগীতজ্ঞ নন, তিনি ছিলেন এক সাধক, যাঁর গান ছিল আধ্যাত্মিক উপলব্ধির প্রতিফলন। তাঁর কণ্ঠে ছিল এক অব্যক্ত মোহনীয়তা, যা প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি করত। তিনি শুধু সুরের মাধ্যমে আনন্দ দিতেন না, বরং মানুষকে ভাবতে শিখাতেন, প্রেম ও সত্যের পথে চলতে উৎসাহিত করতেন।

আমি তাঁর কাছ থেকে শিখেছি, বাউল গান কেবল সুরের খেলা নয়, এটি আত্মার মুক্তি, সত্যের সন্ধান, জীবনের গভীর উপলব্ধি। তাঁর প্রতিটি গানের কথায় ছিল মানবতার জয়গান, ভালোবাসার গভীরতা এবং আধ্যাত্মিকতার সুধা। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে গানের মাধ্যমে জীবনকে নতুনভাবে দেখা যায়, কীভাবে সুরের মধ্যে আত্মার আরাধনা করা যায়।

সুদূর ইংল্যান্ডে, কিন্তু হৃদয়ের কাছাকাছি

বর্তমানে বাউল সম্রাট ক্বারী আমির উদ্দিন আহমেদ সুদূর ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন। তাঁর শারীরিক দূরত্ব আমাদের থেকে অনেক দূরে হলেও, তিনি আমাদের হৃদয়ের একদম কাছেই আছেন। তাঁর গানের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি সুর আমাদের জীবনে প্রতিধ্বনিত হয়, আমাদের অনুপ্রাণিত করে, আমাদের পথ দেখায়।

আমরা জানি, তিনি যেখানে থাকুন না কেন, তাঁর মন বাংলার বাউল গানের সঙ্গেই রয়েছে। তাঁর গানে যে প্রেম, যে দর্শন ফুটে উঠেছে, তা আমাদের সবার জন্য এক অমূল্য সম্পদ। আজকের দিনে আমরা শুধু তাঁকে স্মরণই করছি না, তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করার দৃঢ় সংকল্পও করছি।

তাঁর শিক্ষা চিরজাগরূক থাকবে

আজকের এই দিনে, আমি আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি ছিলেন আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যাঁর সান্নিধ্য আমাকে নতুন করে বাউল গানের প্রতি নিবেদিত করেছে। তাঁর জন্মদিনে আমি প্রতিজ্ঞা করছি, তাঁর শিক্ষাকে আমি আমার সারা জীবনের পথে সঙ্গী করব।

আজকের এই বিশেষ দিনে, আমি শুধু তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে থেমে থাকতে চাই না। আমি চাই তাঁর গান, তাঁর শিক্ষা, তাঁর দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে, যেন তাঁর সৃষ্টি চিরকাল জীবন্ত থাকে। আমরা যারা বাউল গানের সাধনায় আছি, তাদের দায়িত্ব তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদকে সংরক্ষণ করা, তাঁর গানের মর্মবাণীকে ছড়িয়ে দেওয়া।

শেষ কথা

ওস্তাদজি, আপনি যেখানে থাকুন, ভালো থাকুন। আপনার রেখে যাওয়া সুর, সাধনা ও শিক্ষা আমাদের পথচলার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল। আপনার গান, আপনার দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছাক, তারা যেন আপনার দেখানো পথে মানবতা ও সত্যের গান গাইতে পারে।

আপনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, অসীম কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

– মোঃ গোলাম হায়দার (রুবেল)

Scroll to Top